আওয়ামী লীগের ৫ কিলোমিটার জুড়ে র‌্যালি

লেখক:
প্রকাশ: জুন ২২, ২০২৪

দলের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (প্লাটিনাম জুবিলি) উপলক্ষে ‘বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও শোভাযাত্রা’ করছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। গতকাল বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-সংলগ্ন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ প্রাঙ্গণ থেকে এ র‌্যালি ও শোভাযাত্রা শুরু হয়ে শাহবাগ, এলিফ্যান্ট রোড এবং মিরপুর রোড হয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে শেষ হয়। সুবিশাল গণর‌্যালি ও শোভাযাত্রায় প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তায় নেমেছিল মানুষের ঢল। ট্রাকের ওপর নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধনকালে আন্দোলনের হুমকিদাতাদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের ক্ষমতার উৎস বাংলাদেশের জনগণ। কচু পাতার ওপর শিশির বিন্দু আওয়ামী লীগ নয় যে, একটু টোকা লাগলেই পড়ে যাবে। একটু ধাক্কা লাগলে সরে যাওয়ার পাত্র নয় আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ মাঠে আছে, সব ষড়যন্ত্রের জবাব দিতে প্রস্তুত আছে। আওয়ামী লীগ মাথা নত করার দল নয়। আমাদের আন্দোলনের হুমকি দেবেন না।

বিএনপির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলন করবেন, করেন। কিন্তু ২৮ অক্টোবরের মতো পালিয়ে যাবেন না তো? বিএনপির আন্দোলন ভুয়া। বিএনপির নেতৃত্ব, দফা ভুয়া। এই ভুয়া দলের ভুয়া আন্দোলনে জনগণ নেই। আগেও ছিল না ভবিষ্যতেও থাকবে না। যে আন্দোলনে জনগণ নেই সেই আন্দোলন, আন্দোলন নয়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মাথা নত করার দল নয়, ব্যক্তি অপরাধ করলে দুদক স্বাধীন, বিচার বিভাগ স্বাধীন। বিচার করার সৎ সাহস আছে শেখ হাসিনার। আজকে যে চক্রান্ত চলছে এটা আওয়ামী লীগকে হটানোর জন্য কি না এটা ভেবে দেখতে হবে। আজকে আন্দোলনের নামে যদি আবার আগুন নিয়ে মাঠে নামেন, খুনের রাজনীতি করেন, আওয়ামী লীগ তার জবাব দিতে প্রস্তুত আছে। এ সময় নেতা-কর্মীদের গুজবের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সাবধানে থাকবেন, সতর্ক থাকবেন। ফখরুলরা আজ গুজব ছড়াচ্ছে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে গুজব ছড়াচ্ছে। পুলিশের ওপর আক্রমণ করছে। সেনাবাহিনীর প্রতিও তাদের সেই মতলব আছে। তারা আজকে গুজব ছড়িয়ে আওয়ামী লীগকে দুর্নীতিবাজ দল বানানোর চক্রান্ত করছে। আওয়ামী লীগ বিরোধী অপপ্রচারে গণমাধ্যমও জড়িত দাবি করে তিনি বলেন, কিছু কিছু মিডিয়া সেই অপপ্রচারে নেমেছে।

শোভাযাত্রার আগে অস্থায়ী মঞ্চে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সুজিত রায় নন্দী, ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, যুব লীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি, ঢাকা ১০ আসনের এমপি নায়ক ফেরদৌস আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দলের প্রচার সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ ও উপপ্রচার সম্পাদক সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম। মঞ্চে সাবেক পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী, মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, আনিসুর রহমানসহ কেন্দ্রীয়, ঢাকা মহানগর উত্তর দক্ষিণ, সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসে না। তারা নির্বাচনকে ভয় পায়। তারা চক্রান্তকারী। এখন দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, জিয়া পরিবার হলো খুনি পরিবার। জাতির পিতাকে হত্যা করেছে। শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড হামলাসহ ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আল্লাহর দোয়া ও জনগণের ভালোবাসায় আমাদের নেত্রী বেঁচে গেছেন।

ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল দেশকে স্বাধীন করার। সে কারণে তিনি আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। জাতির পিতার নেতৃত্বে স্বাধীনতা পেয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে।

অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ২৩ বছর লড়াই করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। ৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর খুনি জিয়াউর রহমান ও এরশাদরা দেশকে পাকিস্তান বানাতে চেয়েছিল।

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় জনস্রোত : বাদ্য-বাজনার তালে তালে হাতি-ঘোড়া, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার বিশাল ছবি, গত ১৫ বছরের সব অর্জনের ছবি সংবলিত বড় বড় ডিজিটাল ব্যানার আর রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা নিয়ে সুশৃঙ্খল-দৃষ্টিনন্দন এই গণশোভাযাত্রা চোখে পড়ে। দীর্ঘ পথের শোভযাত্রায় স্লোগানে প্র্রকম্পিত করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সেখানে এক অন্যরকম পরিবেশের সৃষ্টি করে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের পক্ষ থেকে আনা দুটো হাতির মহড়া সবার দৃষ্টি কাড়ে। হাতি ছাড়াও ব্যান্ড পার্টি, ঢোলের বাজনার তালে তালে নেচে গেয়ে, কৃষকের সাজ, বেলুনসহ বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী।

ঈদের ছুটি শেষ হলেও ঢাকা ছেড়ে যাওয়া মানুষের ব্যাপক অনুপস্থিতিও গণমিছিলের উচ্ছ্বাসে ছেদ ফেলতে পারেনি। এর মাঝেও বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতি সবাইকে অবাক করেছে। দুপুর থেকেই সাজ সাজ রব পড়ে দলের জন্মদিনের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার। ঢাকার প্রায় সব এমপি ও ওয়ার্ড কাউন্সিলররা হাজারও অনুসারী নিয়ে নিজ নিজ নামে ব্যানার ফেস্টুন সহকারে বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়ে আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নেন। শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন নিখিলের নেতৃত্বে যুবলীগ ও ডেইজী সরোয়ার ও শারমিন সুলতানা লিলির নেতৃত্বে যুব মহিলা লীগের মিছিল ছিল চোখে পড়ার মতো। মিছিলে অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধারাও। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবদুল আহাদ চৌধুরী ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব সফিকুল বাহার মজুমদারের নেতৃত্বে আনোয়ার হোসেন বীরপ্রতীক, আবদুল করিম সরকার, মো. শাজাহান, মোস্তফা ও ডাক্তার রহিমসহ ২ শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তানেরা অংশ নেন। এ ছাড়াও ঢাকা-৮ আসনের এমপি আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা-৪ আসনের এমপি মো. আওলাদ হোসেন, ঢাকা-৫ আসনের এমপি মশিউর রহমান মোল্লা সজল, ঢাকা-৭ আসনের এমপি মো. সোলায়মান সেলিম, ঢাকা-১২ আসনের এমপি আসাদুজ্জামান খান কামাল, ঢাকা-৬ আসনের এমপি মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, ঢাকা-১১ আসনের এমপি ওয়াকিল উদ্দিন, ঢাকা-১৭ আসনের এমপি মোহাম্মদ আলী আরাফাত, ঢাকা-৯ আসনের এমপি সাবের হোসেন চৌধুরীর অনুসারীদের মিছিল ছিল চোখে পড়ার মতো। এ ছাড়াও নিজে উপস্থিত না থাকলেও রংবেরঙ্গের পোশাকে ৫০ ট্রাক নেতা-কর্মীকে পাঠিয়ে দৃষ্টি কাড়ে ঢাকা-১৮ আসনের এমপি খসরু চৌধুরীর মিছিল। এ ছাড়াও সাবেক সংরক্ষিত আসনের এমপি সাবিনা আকতার তুহিনের মিছিলও ছিল চোখে পড়ার মতো।

এ ছাড়া ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক সজল কুন্ডের নেতৃত্বে বিশাল মিছিল সবার নজর কাড়ে। শোভাযাত্রায় আগত নেতা-কর্মীদের হাতে শোভা পায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। এ ছাড়া নৌকা, বড় বড় দলীয় ও জাতীয় পতাকা, হাতিসহ নানা উপকরণে সজ্জিত ছিল পুরো শোভাযাত্রা। রংবেরঙের টি শার্টও ছিল হাজার হাজার নেতা-কর্মীদের শরীরে।